Statement of H M Ershad 25 Sept 2014

 

বিবৃতি

আমি অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি যে, কিছু কিছু মহল আমার বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমার ভূমিকা নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট এবং কল্পনাপ্রসূত তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই মহলটি কুখ্যাত গোয়েবলসের ফর্মুলা অনুসরণ করে বলতে চায় যে, “মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে থাকাকালে আমি নাকি পাকিস্তান থেকে ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছি এবং কোনো এক কল্পিত আদালতের বিচারক ছিলাম”। আমি এই ধরণের জঘন্য মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই মিথ্যুক মহলটির প্রতি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই যে, বর্ণিত এই বানোয়াট তথ্যের যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে- তাহলে আমি রাজনীতি থেকে চির বিদায় নেব, এমনকি দেশ ছেড়েই চলে যাবো। আর যারা এধরণের মিথ্যাচার করছেন, তারা প্রমাণ দিতে না পারলে জাতির সামনে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।


বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা আমার বুকের লালিত স্বপ্ন। দুর্ভাগ্য, সেই স্বাধীনতা যুদ্ধে আমি অংশগ্রহণ করতে পারিনি। কারণ, যুদ্ধ শুরুর মাত্র এক মাস আগে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে আমাকে পোষ্টিং দেওয়া হয়েছিল। যদি দেশে থাকতাম তাহলে জীবনবাজী রেখেই স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতাম।


মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এবং স্বাধীনতার পরে পাকিস্তানের বন্দি শিবিরে স্ত্রীসহ আমি এবং বাঙালী সৈনিক ও অফিসারগণ অববর্ণনীয় নির্যাতন ও দুর্দশা সহ্য করে বেঁচে ছিলাম। এরপর বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক সাফল্যে আমরা দেশে ফিরতে পেরেছি। দেশে ফেরার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই আমাকে পদোন্নতি প্রদান করে আর্মি হেড কোয়ার্টারে এডজুটেন্ড জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনিই আমাকে প্রথমবারের মতো এনডিসি কোর্স করাতে ভারতে পাঠিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আমাকে জানতেন এবং বুঝতেন বলেই তার কাছ থেকে আমি এই পুরস্কার পেয়েছি। পরবর্তীকালে আমি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছি। ক্ষমতা লাভের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আমি যা করেছি আর কেউ তা করতে পারেনি। এখন আমাকে নিয়ে যারা বিভ্রান্ত সৃষ্টি করতে চান- তারা কোন পক্ষের হয়ে কাজ করছেন সে ব্যাপারে প্রশ্ন এসে যায়। কেউ যদি বঙ্গবন্ধুর চেয়ে স্বাধীনতার চেতনাপ্রেমী সাজতে চান- সেই সব অতি প্রেমিকদের ব্যাপারে জাতিকে সজাগ থাকতে হবে।