গণতন্ত্র দিবস-বিবৃতি

 

বিবৃতি
১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর মহান জাতীয় সংসদে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভাষণ প্রদান করে সামরিক শাসন চির অবসানের ঘোষণা দিয়ে আমি বলেছিলাম-জনগণের প্রত্যাশিত গণতন্ত্রের ভিত আজ রচিত হলো- যা কেউ কোনোদিন নস্যাৎ করতে পারবেনা। সেই গণতন্ত্র আজো অব্যাহত রয়েছে বলে গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে ১০ নভেম্বর দিনটি গণতন্ত্র দিবস হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। এই দিনে আমি দেশের সকল গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আমাদের মহান মুক্তি সংগ্রামের প্রধান লক্ষ্য ছিল- স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। আমাদের সেই কাঙ্খিত স্বাধীনতা অক্ষুন্ন আছে এবং চিরকাল থাকবে- কিন্তু গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ব্যহত হয়েছে। তবে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর আমি যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছি কোনো ষঢ়যন্ত্র আর তাকে ব্যহত করতে পারেনি এবং আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি এই গণতন্ত্র অনাদিকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। গণতন্ত্র দিবসে এটাই হোক সকলের অঙ্গীকার।

আমি বলতে চাই- গণতন্ত্র শুধু এক দিনের ভোটের অধিকার নয়- আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক নিয়ম-নীতি ও আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়াই হচ্ছে- ১০ নভেম্বরের মূল মন্ত্র।

এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি অকৃত্রিমভাবে শ্রদ্ধাশীল। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিনটিকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার পথে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে- প্রতিহিংসা পরায়নতা এবং সহায়ক শক্তি হচ্ছে
পরমতসহিষ্ণুতা। গণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তির প্রতি আমি আহ্বান জানাই- আসুন আমরা সকলে হিংসা-হানাহানি-সংঘাত-বিসর্জন দিয়ে পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উর্দ্ধে তুলে ধরি।