Statement of Mr. H M Ershad 6 January 2015

 

বিবৃতি

আমি গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, দেশ আবার চরম রাজনৈতিক সংঘাত, অস্থিরতা, হানাহানির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নতুন বছরের শুরু থেকেই এই সংঘাতের রাজনীতি শুরু হয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলের সেই হরতাল-অবরোধের মতো নেতিবাচক অপরাজনীতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অপরদিকে সরকারও অসহিষ্ণু হয়ে বিরোধী পক্ষের উপর মারমুখী আচরণ চালাতে শুরু করেছে। এর ফলে জনমনে চরম আতঙ্ক-অনিশ্চয়তা নেমে আসছে। এই অবস্থায় একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ চলতে পারেনা এবং সংঘাত ও গণতন্ত্রও একসাথে চলতে পারেনা। সংঘাতের রাজনীতির কারণে গণতন্ত্র এখন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। এই কারণে ইতিমধ্যে অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে গেছে। এ ধরণের ঘটনায় আমি দুঃখিত ও মর্মাহত।

৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনকারীরা সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে জনগণকে জিম্মি করার মতো কর্মসূচী গ্রহণ করছে। অপরদিকে সরকারও প্রতিপক্ষকে দমনের নামে আগ্রাসীদের মতো ভূমিকা পালন করছে। আমরা এর কোনোটাকেই মেনে নিতে পারিনা। দেশবাসী শান্তি চায়- নিরাপত্তা চায় এবং তারা দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখতে চায়।

আমরা মনে করি- জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করে উভয় পক্ষকেই নমনীয় এবং শান্ত থাকতে হবে। সকল দলের সাথে আলাপ-আলোচনা মাধ্যমে সংকট নিরসনে শান্তিপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করতে হবে। প্রতিবাদের ভাষা পরিবর্তন করতে হবে। আমি পয়লা জানুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহাসমাবেশেই আশংকা করেছিলাম যে, ৫ই জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে দেশে আবার সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আমার সেই আশংকাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। সেই মহাসমাবেশেই আমি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম- আসুন আমরা একটি সর্বদলীয় কনভেনশনে মিলিত হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে সর্বসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করি। আমি আবারো সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাইÑ আসুন এক টেবিলে আলোচনায় বসি এবং সংকট নিরসনের উপায় উদ্ভাবন করি।