মহানগর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলনের নির্বাচনী ইশতেহার

 




ভূমিকা :

বাংলাদেশের প্রাচীনতম শহর আমাদের আজকের ঢাকা। সেই সুদুর অতীত সপ্তম শতাব্দীতে যেখানে জনবসতি গড়ে উঠেছিলো- সেই অঞ্চলটি ইতিহাসের সিঁড়ি বেয়ে বিভিন্ন শাসনামলে এবং শাসকের শাসনকার্যের ছোঁয়া নিয়ে ধাপে ধাপে উন্নয়ন সমৃদ্ধি ধারণ করে পরিণত হয়েছে আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের রাজধানি আধুনিক ঢাকা মহানগরী।

কোনো নির্দিষ্ট শাসক গড়ে তোলেননি এই ঢাকা নগরী। নদী বেষ্টিত ভূ-খন্ড, জলবায়ু-মাটি ও মনোরম পরিবেশে এখানে মানুষের বসতি শুরু হয় সপ্তম শতাব্দীর প্রথম ভাগ থেকেই। তারপর অষ্টম শতাব্দীতে বৌদ্ধ রাজত্ব শুরু হয় এই ঢাকা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। বৌদ্ধ রাজা কামরুপ সূচনা করেন এই রাজত্বের। যে রাজত্ব পাল বংশের শাসন নামে ইতিহাসে খ্যাত। এই অঞ্চলে পালদের শাসনকাল ছিলো ৮শ’ থেকে ১১শ’ শতাব্দী পর্যন্ত। তাদের রাজধানী ছিলো ঢাকা থেকে ১২ মাইল দূরে বিক্রমপুরে। তারপর শুরু হয় সেন বংশের রাজত্ব। সেই বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন। দ্বিতীয় সেন রাজা বল্লাল সেনের আমলে ঢাকায় লালবাগে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকেশ্বরী মন্দির। এটাই ঢাকার প্রাচীনতম ঐতিহাসিক স্থাপত্য। যা আজও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সেন রাজত্বের পরে পর্যায়ক্রমে তুর্কী, আফগান, দিল্লির সালতানত, মুঘল, বৃটিশ ও পাকিস্তানী শাসনের হাত ঘুরে এখন স্বাধীন দেশের রাজধানীর মর্যাদায় আসীন হয়েছে আমাদের প্রিয় ঢাকা। এইসব শাসনকালের মধ্যে ঢাকা অধিকাংশ সময় রাজধানী হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে। তারমধ্যে কখনো কখনো রাজনৈতিক কারণে ঢাকা থেকে রাজধানী পাটনা, রাজমহল ও মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত হয়েছে। কিন্তু সময়ের দাবীতে এবং ঐতিহাসিক প্রয়োজনে স্বল্প ব্যবধানে রাজধানী আবার ঢাকায় ফিরে এসেছে।

১৬০৮ সালে ঢাকা মুঘলদের শাসনাধীনে আসার পর থেকে এখানে কিছু বড় বড় স্থাপত্য নির্মিত হতে থাকে। যা ঢাকাকে আজও সমৃদ্ধ করে রেখেছে। তার  আগে এই অঞ্চলে ইসলাম প্রবর্তনের পর ১৪শ’ শতকের প্রথম থেকে ১৬শ’ শতক পর্যন্ত ঢাকা তুর্কী ও আফগান শাসনাধীনে ছিল। সেই সময় লালবাগে আফগান কোর্ট নির্মিত হয়েছিল। যেটাকে পরবর্তীকালে বৃটিশরা ১৮২০ সালে জেলখানায় রুপান্তরিত করে- যা এখন কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৪১২ সালে শাহ আলী বাগদাদী দিল্লি থেকে ঢাকায় আসেন। মীরপুরে তিনি আস্তানা গড়ে তুলেন। যেখানে এখন তার মাজার অবস্থিত। ১৪৫৪ সালে সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ নারিন্দায় “বিনত বিবি মসজিদ” প্রতিষ্ঠা করেন।

ঢাকা মুঘলদের শাসনাধীনে আসার আগে এই অঞ্চল ছিল- বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম ঈশাখাঁর শাসনাধীনে। সোনারগাঁও ছিলো তার রাজধানী। সেই সময় মুঘল সেনাপতি ইসলাম খান ঈশা খানের পুত্র মুসা খানকে পরাস্ত করে ঢাকা অঞ্চলে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলাম খান ঢাকা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে মুঘলদের প্রদেশ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করেন। সেই সাথে তিনি তখনকার মুঘল স¤্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।

শাহজাদা সুজা ঢাকার শাসনকর্তা হিসেবে অবস্থানকালে ১৬৪৪ থেকে ১৬৪৬ সারের মধ্যে বড় কাটরা এবং শিয়া ইমামবারা হুসেইনি দালান প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬৬৪ সালের মে মাসে আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলা ঢাকা অভিযানে আসলে শাহজাদা সুজা পালিয়ে আরাকানে চলে যান। মীর জুমলার পরে ঢাকার শাসনকর্তা হিসেবে আসেন শায়েস্তা খান। তিনি ১৬৬৪ থেকে ১৬৮৮ সাল পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন। তার সময়ে ১৬৭৮ সালে লালবাগ কোর্ট নির্মিত হয়। শায়েস্তা খান ঢাকাকে সম্প্রসারিত করে ১২ মাইল দৈর্ঘ্য এবং ৮ মাইল প্রশস্ত নগরীতে পরিণত করেন। তার সময়ে চক মসজিদ, বাবু বাজার মসজিদ, ছোট কাটরা, পরীবিবির মাজার ও চম্পা বিবির মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৬৯৭ সালে ঢাকার গভর্নর ছিলেন যুবরাজ আজম-উস-শাহ। তখন দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খানের সাথে তার বিরোধের কারণে রাজধানি ঢাকা থেকে পাটনায় নেয়া হয়। অপর দিকে মুর্শিদ কুলি খান তার দপ্তর মুর্শিদাবাদে নিয়ে যান। তখন মুর্শিদাবাদের নাম ছিলো মকসুদাবাদ।

১৭৭২ সালে বক্সারের যুদ্ধের পর বাংলা বৃটিশদের অধীনে চলে আসে। ১৭৭৩ সালে ঢাকায় মোঘল শাসনের সম্পূর্ণ অবসান ঘটে এবং এখানে বৃটিশ শাসন কায়েম হয়। বৃটিশদের উচ্চারনে ঢাকাকে বলা হতো ‘ডাক্কা’ এবং সেই মতে ঢাকার বানান ছিলো উধপপধ। এই অশুদ্ধ উচ্চারণ এবং ঢাকার বানান ব্যবহৃত হয়ে আসছে প্রায় তিনশ’ বছর ধরে। অতঃপর এদেশের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ প্রশাসক, সংস্কারক ও রাষ্ট্রনায়ক পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঢাকার ইংরেজী বানান ঠিক করে উযধশধ প্রবর্তন করেন। বৃটিশদের শাসনামলে ১৮৭৪ সালে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ঢাকা ওয়াসা চালু এবং ১৮৭৮ সালে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।
এভাবেই হাজার বছর ধরে অনেক চড়াই-উৎরাই নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আমাদের ঐতিহাসিক শহর ঢাকার পথ চলা। বিভিন্ন শাসক-প্রশাসকের হাতে একটু একটু করে ঢাকা পেয়েছে উন্নয়ন সমৃদ্ধির ছে^াঁয়া। এভাবে ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যাবে- হাজার বছর ধরে আমাদের স্বপ্নের ঢাকা যেসব উন্নয়ন সমৃদ্ধি এবং স্থাপত্য নির্মিত হয়েছে- তার সমষ্টির চেয়ে অনেক বেশী উন্নয়ন সমৃদ্ধি পাওয়া গেছে স্বাধীন বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৯ বছরের শাসনামলে। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন- তিলোত্তমা ঢাকা মহানগরীর। যুগোপযোগী করে বাস্তবায়ন করেছিলেন তার স্বপ্ন। তাই আমরা আজকের ঢাকাকে সময়োপযোগী করে সাজানোর লক্ষ্য নিয়ে পল্লীবন্ধু এরশাদের নীতি-আদর্শ-পরিকল্পনা-অভিজ্ঞতা এবং তার পরামর্শকে ধারণ করেই- বিভক্ত ঢাকার দুটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতার সাথে তাল মিলিয়ে আমরা যদি ২৪ বছর আগের ঢাকার দিকে ফিরে তাকাই- তাহলে নিশ্চয় চোখে পরবে পল্লীবন্ধু এরশাদের উন্নয়ন-সমৃদ্ধি আর সংস্কারের চোখ ধাঁধাঁনো নিদর্শন। যা এদেশের উন্নয়নের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে রেখেছে। আমরা ঢাকাবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই- পল্লীবন্ধু এরশাদের কিছু যুগান্তকারী নির্দশন।

এক.    ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হয়। একই সাথে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীকেও সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়।

দুই.    বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মেয়র পদ সৃষ্টি করে ঢাকাসহ ৪টি সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নিযুক্ত করা হয়। ঢাকার মেয়রকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা প্রদান করা হয়। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নিযুক্ত করে তার মাধ্যমেই পল্লীবন্ধু এরশাদ তিলোত্তমা ঢাকা নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন।

তিন.     নতুন নির্মাণঃ নগর ভবন, ওসমানী মিলনায়তন, শহীদ বুদ্ধিজীবী মাজার, তিন নেতার মাজার, আর্মি ষ্টেডিয়াম, মীরপুর স্টেডিয়াম, মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল, শ্রমজীবী হাসপাতাল, শাহবাগে জাতীয় যাদুঘর, জিয়া হল, মুজিব হল এবং কুয়েত মৈত্রী হল ।

চার.     ঢাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণ ঃ গোলাপ শাহ মসজিদ, ঢাকার নিউমার্কেট মসজিদ, কাওরান বাজার মসজিদ, পিডব্লিউডি ভবনের নতুন মসজিদ, বেইলী রোডের অফিসার্স কলোনীর নতুন মসজিদ,মহাখালী গাউস-উল-আযম মসজিদ।

পাঁচ.     বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সম্প্রসারণসহ সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ, ঐতিহাসিক তারা মসজিদের সংস্কারসহ মহানগরীর প্রায় সব পুরাতন মসজিদের সংস্কার সাধন।

ছয়.     যোগাযোগের উন্নয়ন ও নতুন সড়ক নির্মাণ ঃ নর্থ সাউথ রোড, পান্থপথ, রোকেয়া স্মরণী, বিজয় স্মরণী, রামপুরা ব্রীজ নির্মাণ, ভরাট হওয়া ওয়ারী খালের জায়গায় রাস্তা নির্মাণ, বুড়িগঙ্গা সেতু, রামপুরা সেতু, রামপুরা থেকে কুড়িল পর্যন্ত বিশ্বরোড, সায়দাবাদ থেকে মালিবাগ রেলক্রসিং পর্যন্ত নতুন রাস্তা এবং সায়দাবাদ, মহাখালী ও গাবতলীতে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এবং ঢাকায় আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রবর্তন।

সাত.     ঢাকা প্রতিরক্ষা বন্যা নিযন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং বিমান বন্দর রক্ষার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ।

আট.     জাতীয় ঈদগাহ নির্মাণ।

নয়.     ওসমানী উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যানসহ ঢাকা শহরে এক ডজনেরও বেশী শিশু পার্ক নির্মাণ। পুরানো ঢাকায় তিনটি খেলার মাঠ নির্মাণ।

দশ.     মূল নকশা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা।

এগার.     কাঁচা বাজার সমূহ ভেঙ্গে দিয়ে আধুনিক বহুতল বিশিষ্ট বাজার নির্মাণ। গুলশান ১ নং ও গুলশান ২ নং বাজার নির্মাণ, কলমীলতা মার্কেট, মহাখালী বাজার, তালতলা মার্কেট ও ধুপখোলায় নতুন বাজার নির্মাণ এবং নবাব ইউসুফ মার্কেট, কাওরান বাজারের সংস্কার সাধন।

বারো.    ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলের সংস্কার সাধন।

তেরো.    ঢাকার সকল রাস্তায় সোডিয়াম লাইট স্থাপনসহ প্রত্যেক অলিগলিতে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা।

চৌদ্দ.    জাতীয় প্রেসক্লাবের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এক কোটি টাকা অনুদান এবং ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য আবাসিক প্লট বরাদ্দ।

পনের.    পথকলি ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে ঢাকায় পথ শিশুদের জন্য বিদ্যালয় এবং চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।


ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পল্লীবন্ধু এরশাদ উল্লেখিত কর্মকান্ড সম্পন্ন করা বাদেও আরো অসংখ্য কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছিলেন। আগামী দিনের ঢাকা শহরের সমস্যার কথা চিন্তা করে পল্লীবন্ধু এরশাদ ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭১ সালের পূর্বে আমরা পরাধীনতার নাগপাশে বন্দি ছিলাম। তখন আমাদের প্রিয় ঢাকা শাষন-শোষন ও বঞ্চনার শিকার ছিল। তারপর আমরা স্বাধীন দেশের ৪৪টি বছর পেরিয়ে এলাম। এর মধ্যে পল্লীবন্ধু এরশাদের নয় বছর আর বাকি সময়ের মধ্যে এই রাজধানি ঢাকা মহানগরীর চিত্র একটু আলাদা করলেই সচেতন ঢাকাবাসী নিশ্চয় অনুধাবন করবেন- এবারের সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে কোন নীতি ও আদর্শের অনুসারী প্রার্থীরা ভোট পেতে পারেন। আমরা রাজধানীবাসীর সচেতন বিবেকের কাছে নিবেদন রাখতে চাই যে, পল্লীবন্ধু এরশাদের বাস্তবায়িত কর্মসূচিগুলো যদি আজ অনুপস্থিত থাকতো- তাহলে আজকের ঢাকা কোন পর্যায়ে চলে যেতো।
বর্তমান অবস্থা :
১৯৯০ সালের পর রাজধানী ঢাকা শহর কার্যতঃ পরিকল্পনাহীনভাবে পরিচালিত হয়েছে। নতুন কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ বা বাস্তবায়ন হয়নি। ঢাকা একদিকে সম্প্রসারিত হয়েছে অপরদিকে সমস্যার তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। একটুখানি ব্যাতিক্রম ফ্লাইওভার নির্মাণের ক্ষেত্রে। পল্লীবন্ধু এরশাদ সময় ও সুযোগ পেলে এই কাজটি অনেক আগেই সম্পন্ন হয়ে যেতো। আজকের ঢাকা এক দূর্ভোগের নগরী। অসহনীয় যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে ঢাকাবাসীকে। বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় অকার্যকর শহর- এই কলঙ্ক ঢাকাবাসীকে বহন করতে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ থাকে ঢাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট। এই রাজধানি শহরের রাস্তাঘাট খানাখন্দরে পরিপূর্ণ- সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, রাতে মশার উৎপাত আর দিনে মাছির যন্ত্রনায় নগরবাসী দিশেহারা। গ্যাস সংকট, খাবার পানির সংকট লেগেই আছে। লোডশেডিং চলছে তো চলছেই। পাশাপাশি চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-চাঁদাবাজীসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে। খোদ রাজধানী শহরেই মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে সীমাহীন সমস্যায় জর্জরিত একটি শহরের নাম এখন ঢাকা।

আমাদের লক্ষ্য ঃ
আমরা এই শহরবাসীদের স্বস্তি ও শান্তির নিঃশ্বাস ফিরিয়ে দিতে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমাদের শক্তি, সাহস ও ভরসা পল্লীবন্ধু এরশাদের নীতি,আদর্শ, অভিজ্ঞতা এবং তার পরামর্শ। তিনি অতীতে ২জন মেয়র নিযুক্ত করে তাদের মাধ্যমে কর্মকান্ড পরিচালনা করে দেখিয়েছেনÑ কীভাবে ঢাকা শহরকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করা যায়। তার পরামর্শ নিয়ে কাজ করে আবারও প্রমাণ দেখাতে চাই যে, ২৪ বছরে হারিয়ে যাওয়া শান্তি ও সৌন্দর্যের ঢাকাকে আবারও আমরা তিলোত্তমা নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

আমরা নির্বাচিত হলে- ঢাকার উন্নয়ন এবং নগরবাসীর শান্তি-স্বস্তি-সুবিধা ও কল্যানের জন্য যেসব কর্ম ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই- তা আমাদের এই নির্বাচনী ইশতেহার তথা অঙ্গীকারনামায় তুলে ধরতে চাই। প্রশাসনিক সুবিধার্থে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ- এই দুই ভাগে ভাগ করা হলেও সকল ধরণের সমস্যা ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রে আমরা এক ও অভিন্ন। তাই পল্লীবন্ধু এরশাদের সমর্থন ও আশীর্বাদপুষ্ট মেয়রপ্রার্থী হিসেবে আমি এবং আমাদের অনুগামী কাউন্সিলর প্রার্থীগণের পক্ষ থেকে আমরা যৌথভাবে এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছি।





আমাদের অঙ্গীকার :

এক.    রাজধানী ঢাকাকে যানজট মুক্ত রাখা।

দুই.    ঢাকাবাসীদের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা।

তিন.    পরিচ্ছন্ন ঢাকা উপহার দেয়া হবে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

চার.    মশা ও মাছি থেকে ঢাকাকে মুক্ত রাখা।

পাঁচ.    আইল্যান্ডসমূহে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজ ঢাকা গড়ে তোলা।

ছয়.    ঢাকাকে গড়া হবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজীমুক্ত এলাকা হিসেবে।

সাত.    জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়ার প্রয়োজন হলে সকল বিভাগের সমন্বিত কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করা হবে।

আট.    ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী রাখা হবে।

নয়.    বুড়িগঙ্গা নদী দখলমুক্ত করা হবে এবং এই ঐতিহ্যবাহী নদীকে দূষণমুক্ত রাখা হবে।

দশ.    গণ পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও আরামপ্রদ করা হবে এবং পর্যাপ্ত পরিবহন রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

এগার.    সিটি কর্পোরেশনের আয়ের নতুন খাত বের করে আয় বৃদ্ধি করা হবে। রাজধানীবাসীর ট্যাক্স বাড়ানো হবেনা।

বারো.     ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে।

তেরো.    ভবঘুরে পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাজধানীকে ভিক্ষুকমুক্ত রাখা হবে।

চৌদ্দ.    ব্যস্ততম রাস্তাসমূহের উপর দিয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পনের.    সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্গত সকল এলাকার রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী রাখা হবে।

ষোল.    রাজধানী ঢাকাকে সকল সময়ের জন্য হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখার জন্য জনমত গঠন করে আইন প্রণয়ের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সতের.    রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্যে সুনির্দিষ্ট মাঠ বা জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

আঠারো ঃ সিটি কর্পোরেশনকে দূর্ণীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

উপসংহার :
আমরা এই কর্মপদ্ধতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দাদের কাছে ভোট প্রার্থনা করতে চাই। এই মেয়র নির্বাচনে সিটি কর্পোরেশন উত্তরে আমি মেয়র প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন সোফা সেট প্রতীকে ভোট প্রদানের জন্য দক্ষিণ ঢাকাবাসীর প্রতি আবেদন জানাই।

এই নির্বাচনে আমাদের স্লোগান-
“যানজট মুক্ত তিলোত্তমা ঢাকা গড়তে চাই।”