সাম্প্রতিক প্রসঙ্গে কিছু কথা এবংভবিষ্যতের আশাবাদহুসেইন মুহম্মদ এরশাদ




উত্তরবঙ্গের মানুষ হিসেবে আমি ছিটমহলবাসীর দুঃখ-দুর্দশার সাথে একান্তভাবে পরিচিত ছিলাম। ওরা নিজ নিজ পরিচয়ে পরিচিত হবার জন্য দীর্ঘ আন্দোলন করে এসেছে। অনেকে আন্দোলন করতে করতে মরেই গেছে কিš‘ আত্ম পরিচয়ে পরিচিত হয়ে যেতে পারেননি। যারা নামে পরিচয়ে ছিলেন বাংলাদেশীÑ অথচ নিজ দেশেই ছিলেন পরবাসী। এরা বাস্তবে ছিলেন দেশহীন, নাগরিত্বহীন। নাগরিক অধিকার কাকে বলে- তা এক প্রকার জানতেনই না এদের অনেকেই। এরা শুধু জানতেন যে, তারা ছিটের মানুষ। অবরুদ্ধ জীবন-যাপনের যন্ত্রনা, যাতায়াত সমস্যা, শিক্ষা ও স্বা¯’্যসেবাহীন যাপিত জীবন, নিরাপত্তাহীনতা ও বি”িছন্নতার কষ্টÑ এসব মিলিয়ে হাহাকারে ভরা ছিল তাদের সার্বিক জীবন। সেই সুদীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশী সময়ের দুর্বিসহ জীবনের অবসান ঘটতে যা”েছ ছিটমহলের জনগণের। এখন তারা আত্ম পরিচয়ে পরিচিত হবেÑ তারা বাংলাদেশের মূল-ভূখন্ডে যুক্ত হবে- তাদের হাতে বাংলাদেশের পতাকা উড়বে- তারা নাগরিক সুবিধা পাবে- ভোট দিতে পারবে। আমরা আমাদের নাগরিকদের বুকে তুলে নিতে পারবো- তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে পারবো। তাই এত দিনের ছিটমহলবাসীদের সাথে আমিও এখন আনন্দিত এবং আবেগে উদ্বেলিত। এই মধুর অনুভুতি বুকে নিয়ে ভারত সরকারকে আমি অভিনন্দন জানাই। কারণ অনেক সীমাবদ্ধতা এবং অভ্যন্তরিন অনেক জটিলতা থাকা  সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আমাদের বন্ধুপ্রতীম ভারত ছিটমহল বিনিময় বিল পাশ করে- আমাদের নাগরিকদের আবদ্ধজীবনের অবসানের ব্যব¯’া করে দিয়েছেন। এর জন্য হয়তো আমাদের ৪১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিš‘ শেষ পর্যন্ত আমাদের কাঙ্খিত প্রত্যাশা যে পূরণ হয়েছে এটাই বড় কথা।
ছিটমহল বিনিময় সংক্রান্ত বিলটি ভারতীয় রাজ্যসভায় পাশের সময় মাননীয় সদস্যদের আলোচনা আমাকে অভিভূত করেছে। সভায় উপ¯ি’ত ১৮১ সদস্যের সবাই এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। সেই সর্বসম্মত ভোটের চেয়েও বড় বিষয় ছিল আলোচকদের অনুভূতিÑ যা আমি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধী করেছি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য ছিটমহল বিনিময় সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পেশকালে বলেছেন, “একাত্তরের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যে উ”চতায় উঠেছিলÑ এই বিল পাশ হলে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আবার সেই উ”চতায় পৌঁছাবে। রচিত হবে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের এক নতুন দিগন্ত।” এই বিলের উপর আলোচনার সময় অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। এমনকি এক অবাঙালী নির্দলীয় সদস্য বিলটির উপর আলোচনার সময়- পরিস্কার বাংলায়- “শোনো একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি........... বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ”- গানটি গাইতে শুরু করেন এবং গাইতে গাইতে কেঁদে ফেলেন। জনতা দলের নেতা শরদ যাদব বলেছেন- “বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় বন্ধু” কংগ্রেসের প্রবীন সদস্য কর্ণ সিং বলেছেন- ইন্দিরা গান্ধীর মন্ত্রিসভার একমাত্র সদস্য হিসেবে আমি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্বাক্ষী।” তিনিও বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় বন্ধু। বিরোধী নেতা গোলাম নবী আজাদ এই বিলটি উত্থাপনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন- “কুরসি বদলের সঙ্গে মন বদল ঘটেছে বলে আমি খুশি।” বাংলাদেশ এবং এদেশের জনগণেল প্রতি ভারতের রাজ্যসভায় মাননীয় সদস্যদের এই অনুভুতি দেখেই আমি অভিভূত হয়েছি। এখানে সরকারি ও বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছেন। সর্বসম্মতভাবে বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তার জন্য কিš‘ ভারতের বিরোধী দল “গৃহপালিত বিরোধী দল” হয়ে যায়নি। আর আমরা এখানে সরকারের কোনো উন্নয়নমূলক কিংবা জনস্বার্থের পদক্ষেপের সাথে একমত পোষণ করলেই ‘গৃহপালিত’ আখ্যায়িত হই- এটা গণতন্ত্রের জন্য দুঃখ। এখানে বিরোধী দল মানে- বুঝে হোক আর না বুঝেই হোকÑ সরকারের যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করতেই হবেÑ সংসদে বসে- গালাগালি, মাইক ভাঙ্গা কিংবা ফাইল ছুঁড়তে হবেÑ তাহলেই প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা হয়ে যাবে।
যাই হোক এই মুহুর্তে সব কথার উর্দ্ধে একটি কথাই বড়োÑ আমার উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের মধ্যে বি”িছন্ন থাকা একটি অংশ আজ আমাদের জনগোষ্ঠির সাথে এক অর্থে একান্নভুক্ত হতে পেরেছেÑ এটাই মহা আনন্দের এবং অসীম প্রাপ্তির। এই মহেন্দ্রক্ষণটি যখন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছিলো কাকতালীয়ভাবে আমি তখন রংপুরেই অব¯’ান করছিলাম। সেখানে অব¯’ানকালে কিছু কিছু প্রিন্ট মিডিয়ায় আমার দল সম্পর্কে কিছুটা বিভ্রান্তিমূলক, কিছুটা অপপ্রচারমূলক, আবার নিজ দলের মধ্য থেকে কারো কারো বালখিল্য উদ্ধৃতি প্রকাশিত হতে থাকায় মনটা সামান্য হলেও আহত অব¯’ায় ছিলো। বিশেষকরে সদ্য সমাপ্ত তিনটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আমার দলের সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রত্যাশিত ভোট না আসার বিষয়টিকে দলীয় ভাবমূর্তি হিসেবে বিবেচনা করে কিছুটা বিভ্রান্তমূলক আলোচনা-সমালোচনা বা বিবৃতি-বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে হলেও আমার কিছু বক্তব্য আছে। তবে তার আগে ছিটমহলের জনগণের প্রসঙ্গে আরো কিছুটা অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে চাই। কারণ, এখানে রয়েছে আমার প্রাণের টান- আত্মার অনুভুতি। দীর্ঘদিন ধরে ওদের দুঃখ-কষ্টের সাথে নিজের উপলব্ধী জড়িয়ে রেখেছি। কারণ, ওরা যে আমারই মানুষ- আমারই একান্ত আপন জন। তাই যখন ভারতের রাজ্য সভায় বিলটি পাশ হয়েছেÑ তখনই ওদের একটি প্রতিনিধি দল আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমার রংপুরের বাসভবনে ছুটে এসেছে। আমি দেখেছি ওদের চোখে-মুখে বহু প্রত্যাশিত প্রাপ্তিতে আনন্দের মুর্ছনা। আমিও একাকার হয়ে গেছি ওদের সাথে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদের আমলে রংপুরের কালেক্টরিয়েট ময়দানে ছিটমহলবাসীদের এক সমাবেশ হয়েছিল। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমি উপ¯ি’ত ছিলাম। মনে পড়ে সে খানে বলেছিলামÑ ছিটমহলবাসীদের জীবন থেকে এই অন্ধকার একদিন কাটবেই। এখন আধার অনেক গভীর হয়ে গেছে। প্রকৃতির নিয়মেই রাত যত গভীর হয় - ভোরের আলো তত কাছে চলে আসে। সেই আলো দেখতে পাবো কিনা জানিনা- তবে আলোর হাতছানি আমি দেখতে পা”িছ। ভাগ্য আমার সুপ্রসন্নÑ সেই আকাঙ্খার আলো আমি দেখতে পেলাম। এটাই আমার প্রত্যাশার এক পরম পাওয়া।
আমি জানি- আমি বিশ্বাস করি এবং আমার অভিজ্ঞতা বলেÑ আমার জীবনে এবং আমার পার্টির উপর যতই আঘাত এসেছে- যতই অন্ধকার নেমেছে- তা আবার দূরিভূত হয়ে গেছে। এখনো যদি বিরূপ পরিবেশ পরি¯ি’তি থাকতে তো তা আবার কেটে যাবে, এটা আমার একান্ত বিশ্বাস। তাই আমি এতটুকু হতাশ নই। বাস্তবতা বলেÑ আমার বা আমার দলের কট্টর সমালোচকদের মুখে ছাই পড়েছে। এখন তাদের সবাইকেই শুনতে হ”েছÑ “এর চাইতে এরশাদের আমল ঢের বেশী ভালো ছিল।” আমিও জনারণ্যের ঢেউ-এর শব্দে শুনতে পাই- “ আপনি আবার ফিরে আসুন।” এর চাইতে বড় পাওয়া আমার কিংবা আমার পার্টির নেতাকর্মীদের কাছে আর কি থাকতে পারে। তাই “আবার ফিরে আসুন” এই আহ্বানকে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে আমরা যদি আরো সুসংগঠিত হতে পারি- তাহলে কাঙ্খিত ফল আমাদের তলানীতে যাবেনাÑ বরং উপ্চে পড়বে। আর সেই অনাগত ফল আমাদের পূর্ব দিগন্তে হাতছানি দি”েছ- এটা আমার অঙ্কের কথা এবং অভিজ্ঞতার যোগফল।
তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের কথায় ফিরে আসি। এই নির্বাচন কেমন হয়েছে সে আলোচনায় যেতে চাইন॥ এ সম্পর্কে পত্র-পত্রিকায় ব্যাপক খবর প্রকাশিত হয়েছেÑ জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। সুতরাং এখানে আমার মন্তব্য নিস্প্রয়োজন। আমাদের জন্য লক্ষনীয় বিষয় এই যে, এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থীরা কেমন ফল করেছেÑ তা নিয়ে আমাদের কট্টর সমালোচকরাও কোনো মন্তব্য করেননিÑ কারণ তারা জানেন যে, নির্বাচনটা কেমন হয়েছে। আমরা কোনো নির্বাচন বিমুখ দল নই বিধায় সিটি নির্বাচনে ক্ষেত্রেও আমাদের ইতিবাচক মনোভাব ছিলো। তাই আমরাও সমর্থন দিয়েছি। এই নির্বাচনের ফল সম্পর্কে যে সমালোচনা হয়েছেÑ তা বাইরে থেকে হয়নিÑ যা হয়েছে তা অন্তর্ঘাতমূলক।
একটি বিষয় মনে রাখতে হবে- সিটি কর্পোরেশনের  নির্বাচন কিš‘ ¯’ানীয় সরকারের নির্বাচন। এটা দলীয় কোনো নির্বাচন নয়। তবে দলীয় প্রভাব যে থাকে তা অনস্বীকার্য। এটা ইউপি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ঘটে। সাধারণত দেখা যায়- ¯’ানীয় সরকার ব্যব¯’ার নির্বাচনের ফল সরকার সমর্থকদের অনুকুলে থাকে। কারণ একটা ধারণা থাকে যে, সরকারের সাহায্য সহযোগিতা পেতে সরকারি দলের প্রতিনিধিদের বেশি সুবিধা হয়। যা বিরোধী পক্ষের হলে- প্রতিকূল পরি¯ি’তি হতে পারে। আমরা ধরে নিতে পারি এ সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করবে। তাই ¯’ানীয় সরকার পরিষদকে আরো অন্ততঃ চার বছর এই সরকারের সাথে কাজ করতে হবে। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারেÑ বিগত আমলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি সিটি কর্পোরেশনে বিরোধীদলের প্রার্থীরা বিজয়ী হলেন কীভাবে। এখানে মনে রাখতে হবে যে, তখন সরকারের সামনে ছিলো আর মাত্র এক বছর সময়। আমাদের দেশের ক্ষমতার পালাবদলের ইতিহাস হ”েছÑ এক আমলের সরকারি দলকে পরের আমলে বিরোধী আসনে বসতে হয়। সেই বিবেচনাতে বিগত আমলের ৫ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফল বিরোধী পক্ষে গেছে। আর তখনকার সরকারেরও প্রয়োজন ছিল এটা বুঝানোর যে, তাদের শাসনাধীনে স্ব”ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পূর্বেকার নির্বাচনের কথাও স্মরণ করা যেতে পারে। সেই অবিভক্ত ঢাকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট বর্জন করেছিলো। তখন সরকারি দল বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রার্থী এক প্রকার ওয়াকওভার পাওয়ার মতো নির্বাচনে একচেটিয়া ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তখন আওয়ামী লীগের তো কোনো ভোটই ছিলনা। তাতে কি আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে? পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের এলাকাসহ গোটা ঢাকা বিভাগে বিএনপি-জামায়াত জোট “হোয়াইট ওয়াশ” হয়েছে। যে ঢাকা একদা আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল- সেই ঢাকার আসনে আমি সর্বাধিক ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছি। পরিবেশ পরি¯ি’তি এভাবেই প্রবাহিত হয়। এটাই আমার অর্জিত অভিজ্ঞতা। তাই সিটি নির্বাচনের ফল যেভাবেই বা যা-ই হোক না কেনো- দলীয় নির্বাচনে তার কোনো প্রভাব থাকেনা। সুতরাং এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা হতাশ হবার কোনো অবকাশ নেই। তারপরও কথা থাকে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই অংশে আমাদের সমর্থিত ৬০ জনের মতো কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। ফল যেভাবে যা-ই আসুক না কেনোÑ তাদের ভোট যোগ করলেও প্রায় লাখের মতো ভোট আমাদের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে এসেছে। গড়ে যেখানে মাত্র ৪০ ভাগ ভোট কাষ্ট হয়েছে বলে ঘোষণা এসেছে- তার মধ্যে এই ভোটইবা কম কীসে!
বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, দেশের রাজনৈতিক পরি¯ি’তি জটিল আকার ধারণ করেছে। স্ব”ছ গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে কিংবা পরি”ছন্ন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিরাজমান রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আনতেই হবে। সেটা একমাত্র জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সুসংগঠিত করার মাধ্যমেই সম্ভব। এটা অনস্বীকার্য যে, বিরাজমান রাজনৈতিক পরি¯ি’তি গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য সহায়ক নয়। অবক্ষয় শুধু রাজনীতিতেই নয়- অবক্ষয় সর্বত্রই। দুইটি ধারা এমনভাবে পরিচালিত হ”েছ- যার বিপরীতে বিকল্প শক্তির উত্থান এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বিকল্পের উত্থান কোনো দলের ভগাংশের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সেটা হতে পারে একটি একক শক্তির নেতৃত্বে প্রকৃত জাতীয়তাবাদীদের ঐক্যের মাধ্যমে। আজ অনেকের কাছে এটা আমার কল্পনাবিলাস মনে হলেও হতে পারে- কিš‘ আমি দ্বিধাহীন চিত্তে বলে দিতে পারি- বিরাজমান দুইটি ধারার অপরাজনীতির বিপরীতে তৃতীয় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটতেই হবে- যার নেতৃত্বে থাকবে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী শক্তি- জাতীয় পার্টি। একটি নিষ্ঠুর বাস্তবতা হ”েছ- জাতীয়তাবাদী শক্তির একটি বিভ্রান্ত অংশ বিরাজমান ২টি রাজনৈতিক ধারার একটির নেতৃত্বে রয়েছে। প্রকৃত জাতীয়তাবাদ বলতে তাদেরই বুঝাবে- যারা যার যার ধর্মীয় মূল্যবোধে এবং স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী এবং জাতি ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যাদের সহায়, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে শক্তি প্রদর্শনের নীতি যাদের রাজনীতির ধারা- তারা আর যে আদর্শেরই বিশ্বাসী হোক্না কেনো- জাতীয়তাবাদী শক্তি হতে পারেনা। তাই এখন দেশ, জাতি, গণতন্ত্র ও সু¯’্য রাজনীতির স্বার্থে প্রকৃত জাতীয়তাবাদীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নাই। আমার বিশ্বাস- সময়ের দাবীতে এই ঐক্য গড়ে উঠবেই।
আওয়ামী লীগের সাথে আমাদের রাজনৈতিক আদর্শের মিল হবেনা এবং গণতান্ত্রিক ব্যব¯’ায় একটি দলের সাথে আর একটি দলের নীতি-আদর্শের মৌলিক পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থে চুম্বকের ধর্মের মতো বিপরীত মেরুকে কাছাকাছি আসতেই হবে। তবে সেটা সংঘাতের জন্য নয়। এই যেমন- ছিটমহল বিনিময় বিল পাশের প্রসঙ্গে- ভারতের বিভিন্ন মতের সকল দল একমত হয়ে সংশোধনী বিল সর্বসম্মতভাবে পাশ করেছে। গণতান্ত্রিক ব্যব¯’ায় এটি হ”েছÑ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

আমার এখনকার চিন্তা কিš‘ আজকের জন্য নয়Ñ আমি অনাগত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কথা বলি। আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর শত ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রায় ২৫ বছর টিকে আছি। আর বিএনপি ক্ষমতা হারিয়ে ৬/৭ বছরের মধ্যেই এখন অস্তিত্ব নিয়ে হুমকীর মুখে। যে গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, সে গাছ সামান্য ঝড়েই ভেঙ্গে পড়ে। বিএনপি’র ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। ইতিহাস বলে, আদর্শহীন রাজনীতি টিকতে পারেনা। অন্য দলের নীতি-আদর্শ ও চেতনা বিএনপি’র মধ্যে ইনজেক্ট হয়েছে। তাদের কথিত জাতীয়তাবাদের মধ্যে যে ভাইরাস ঢুকেছে- এখান থেকে মুক্তির পথ নাই। আবার এই ভাইরাস আক্রান্ত শক্তি যদি দেশের ক্ষমতায় আসে তাহলে- দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ গভীর অন্ধকারে ডুবে যাবে। তবে সেই আশংকায় ভীত হবার কোনো কারণ নেই। তার কারণ এই শক্তি এখন ক্ষয়িষ্ণু।
আমি হয়তো আরো ঝড়ের মুখে পড়তে পারি। কিš‘ জানি- তাও আমরা ওভারকাম করতে পারবো। আমার ভাবনাগুলো সব সময় সমালোচনার মুখে পড়েছে। কিš‘ সময় বলে দিয়েছে, আমিই সঠিক। যখন উপজেলা প্রবর্তন করেছিলামÑ তখন প্রতিপক্ষ সকল রাজনৈতিক দলের কাছে সেটা ছিল ‘উপজ্বালা’। কিš‘ বাস্তবতা হ”েছ- সেই উপজ্বালা আজ উন্নয়নের আশার আলো। যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিলো “ দেবদূতের সরকার”- তখন আমি বলেছিলাম- এটা রাজনীতিবীদদের জন্য কলঙ্কতিলক। এই তিলক একদিন মুছে যাবেই। সেটা মুছে গেছে। আমি বলেছি- নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার করতে হবে। এদেশে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারও একদিন করতে হবে এবং সেটাও হতে হবে আমার ফর্মূলা অনুসারে। আমি বলেছি- এত জনঘনবসতিপূর্ন দেশ এককেন্দ্রীক সরকার ব্যব¯’ায় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।  তাই প্রাদেশিক ব্যব¯’া প্রবর্তন করতে হবে। এই প্রস্তাবের তেমন কোনো বিরোধীতা নেইÑ তবে বাস্তবায়নও করা হ”েছনা। দেশ যখন স্বাধীন হয়Ñ তখন জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। স্বাধীনতার পর ৪২ বছরের মধ্যে সেই জনসংখ্যা হয়েছে ১৬ কোটি। অর্থাৎ দ্বিগুনেরও বেশী। আগামী ৪২ বছরে বর্তমান জনসংখ্যা যখন দ্বিগুন হয়ে যাবে তখন দেশের পরি¯ি’তি কেমন হজবে। সেই বিবেচনাতেই পরিবর্তন আসতে হবেÑ পরিবর্তন আনতে হবে। আমি নতুন প্রজন্মকে ঘুম জাগানিয়া গান শোনাতে বিশ্বাসী নইÑ তাদের জন্য আশা জাগানিয়া পথ দেখাতে চাইÑ সেটাই আমার রাজনীতির পথ ও পাথেয়।